সকাল ৭:৪৬, সোমবার, গ্রীষ্মকাল, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

Practical Learning in Education

নতুন শিক্ষাক্রমে আমূল পরিবর্তন: পরীক্ষা নয়, ব্যবহারিক জ্ঞানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

600

প্রতিবেদন: নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে, সেখানে প্রথাগত পরীক্ষার চাপ কমিয়ে ব্যবহারিক এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন রূপরেখা তুলে ধরেন।

নতুন এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসেই তাদের অধিকাংশ কাজ শেষ করবে। সারা বছর ধরে তাদের বিভিন্ন প্রজেক্ট, অ্যাসাইনমেন্ট এবং দলগত কাজের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই না আমাদের বাচ্চারা শুধু বই মুখস্থ করে জিপিএ-৫ পাক। আমরা চাই তারা চিন্তা করতে শিখুক এবং বাস্তব জীবনে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারুক।”

নতুন শিক্ষাক্রমের বড় একটি পরিবর্তন হলো দশম শ্রেণী পর্যন্ত কোনো বিভাগ (বিজ্ঞান, মানবিক বা বাণিজ্য) থাকবে না। সব শিক্ষার্থীকে সব বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান অর্জন করতে হবে। একাদশ শ্রেণীতে গিয়ে তারা তাদের পছন্দের বিভাগ বেছে নিতে পারবে। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে মানসিক চাপ অনেক কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে এই নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ। গ্রামীণ অঞ্চলের শিক্ষকরা কতটা দ্রুত এই পদ্ধতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক। সরকার জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই লাখ লাখ শিক্ষককে অনলাইন ও অফলাইনে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে।

অভিভাবকদের একটি অংশ এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশ্বস্ত করেছে যে, ক্লাসভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি সঠিকভাবে কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের আর প্রাইভেট বা কোচিং সেন্টারে দৌড়াতে হবে না। এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।