প্রতিবেদন: নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা আগের দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঢাকার অনেক নামী হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা নেই। বারান্দায় এবং মেঝেতে শয্যা পেতে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম ২০ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়া এবং বৃষ্টিপাতের কারণে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র বৃদ্ধি পাওয়ায় এই মহামারি রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার এবং জটিলতা বেশি দেখা দিচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এবার ডেঙ্গুর ধরন কিছুটা ভিন্ন। অনেক ক্ষেত্রে রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেশি থাকছে। তাই জ্বর হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। অবহেলা করে বাড়িতে বসে থাকলে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যেতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
সিটি কর্পোরেশন মশা নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করলেও সাধারণ মানুষ বলছে তা পর্যাপ্ত নয়। অনেক এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে লাভ নেই; মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং ডাবের খোসা, টায়ার বা ফুলের টবে পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
সরকার ডেঙ্গু চিকিৎসায় বিশেষ ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া প্লাজমা ও রক্ত সংগ্রহের জন্য রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। এই কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর এবং সচেতন থাকার বিকল্প নেই।










