সকাল ৭:৪৩, বৃহস্পতিবার, গ্রীষ্মকাল, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

Traffic Chaos in Dhaka

যানজটের ঢাকা: শুধু অবকাঠামো নয়, প্রয়োজন ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ

483

প্রতিবেদন (কলাম): কলামিস্ট: ঢাকা শহর মানেই যেন যানজটের শহর। প্রতিদিন এই শহরে লাখ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে রাস্তার মোড়ে মোড়ে। সরকার মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে এবং বড় বড় ফ্লাইওভার নির্মাণ করে যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—শুধু বড় বড় কাঠামো তৈরি করলেই কি ঢাকার যানজট কমবে? বাস্তবতা বলছে অন্য কথা।

বিরাজমান যানজটের অন্যতম কারণ হলো বিশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থা। রাস্তায় বাসগুলোর মধ্যে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা, যেখানে সেখানে যাত্রী তোলা এবং যত্রতত্র পার্কিং পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দিচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য। একটি বাসে যেখানে ৫০ জন মানুষ যেতে পারে, সেখানে একটি কার মাত্র একজন বা দুইজন যাত্রী নিয়ে রাস্তার বিশাল অংশ দখল করে রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যানজট নিরসনে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। উন্নত বিশ্বে আইনের ভয়ে মানুষ নিয়ম মানে, কিন্তু আমাদের দেশে আইন ভাঙাই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। যত্রতত্র রাস্তা পারাপার, সিগন্যাল অমান্য করা এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানোর সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এজন্য আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিজিটাল ফাইনিং সিস্টেম চালু করা জরুরি।

পাশাপাশি ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। সব স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল এবং অফিস যদি ঢাকা কেন্দ্রিক হয়, তবে মানুষ ঢাকাতেই ছুটবে। ঢাকার ওপর চাপ কমাতে হলে জেলা শহরগুলোতে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। মেট্রোরেল একটি বড় সমাধান হতে পারে, তবে এর সাথে ফিডার বাস সার্ভিস না থাকলে এর পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাবে না।

পরিশেষে, যানজট মুক্ত ঢাকা গড়তে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনগণের সহযোগিতা। আমরা যদি নিজেরা নিয়ম না মানি, তবে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বানানো ফ্লাইওভারগুলোও একসময় যানজটের নিচে ঢাকা পড়ে যাবে। সময় এসেছে সম্মিলিতভাবে এই সমস্যার সমাধান খোঁজার।




মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।