প্রতিবেদন: নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। সাম্প্রতিক সময়ে হুন্ডি বা অবৈধ পথ পরিহার করে বৈধ চ্যানেলে ব্যাংকিং মাধ্যমে টাকা পাঠানোর হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গত এক মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং আমেরিকা থেকে প্রবাসীরা এই মাসে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। সরকারের দেওয়া ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা এবং ব্যাংকগুলোর বিশেষ সেবার কারণে প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন। বিশেষ করে ঈদ বা উৎসবের আগে এই প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পায়।
প্রধানমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের এই অবদানের প্রশংসা করে তাদের “দেশের প্রকৃত হিরো” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থে দেশের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা থাকছে। প্রবাসীদের জন্য বিমা সুবিধা এবং বিশেষ পেনশন স্কিম চালুর কাজও এগিয়ে চলছে বলে তিনি জানান।
তবে প্রবাসীদের অনেক অভিযোগও রয়েছে। তারা বলছেন, বিদেশে দূতাবাসগুলোতে সেবা পেতে তাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া বিমানবন্দরে ফেরার সময় হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটে। সরকার এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে এবং প্রবাসীদের জন্য আলাদা ডেস্ক ও ভিআইপি সেবা নিশ্চিত করার কাজ শুরু করেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ ধরে রাখতে হলে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা জরুরি। এছাড়া দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে পারলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব। এজন্য কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।










