প্রতিবেদন: বগুড়া প্রতিনিধি: উত্তরের জনপদে বইছে সোনালী ধানের ঘ্রাণ। কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার বগুড়া, নওগাঁ ও জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। দিগন্ত জোড়া মাঠে এখন শুধু সোনালী রঙের খেলা। কৃষকরা মহাব্যস্ত ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে। তবে ফলন ভালো হলেও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে কিছুটা চিন্তিত তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার ধান চাষে কৃষকরা আধুনিক কম্বাইন হারভেস্টর মেশিন এবং উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করেছেন। এতে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ অনেক কম হয়েছে এবং প্রতি হেক্টরে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। যান্ত্রিকীকরণের ফলে ধান কাটার খরচ এবং সময় দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে বলে অনেক কৃষক জানিয়েছেন।
একজন আদর্শ কৃষক তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “আগে আমরা গরু দিয়ে হাল চাষ করতাম, কিন্তু এখন সব যন্ত্র দিয়ে হয়। এবার ধানের দানাও বেশ পুষ্ট হয়েছে। তবে বাজারে ধানের সঠিক দাম পাবো কি না, সেটা নিয়ে ডর লাগছে। সার আর ওষুধের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে ন্যায্যমূল্য না পাইলে আমাগো লোকসান হবে।”
বাজারে ধানের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকরা তাদের ধান গুদামে জমা দিতে পারবেন। এতে ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ছোট কৃষকরা যাতে এই সুবিধা পায়, সেদিকে নজর দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, উত্তরের এই খাদ্য ভাণ্ডার যদি সঠিকভাবে রক্ষা করা যায় এবং কৃষকদের যথাযথ সহায়তা দেওয়া হয়, তবে দেশ খাদ্য উৎপাদনে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। উদ্বৃত্ত ধান বিদেশে রপ্তানি করার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে। এখন শুধু প্রয়োজন বাজার তদারকি এবং কৃষকের হাতে সরাসরি মুনাফা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা।










